ব্যক্তিগত ও সামাজিক অস্থিরতা দূর করতে আধ্যাত্মিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন ইসলামি চিন্তাবিদরা
বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে নানামুখী অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং ব্যক্তিগত জীবনের গভীর সংকট ও হতাশা থেকে মুক্তিতে নামাজ ও দোয়ার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, যখন মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যায়, তখন মহান আল্লাহর দরবারে আত্মসমর্পনই একমাত্র পথ। রাজধানীসহ সারা দেশে ধর্মীয় আলোচনা ও জুমার খুতবায় এখন এই আধ্যাত্মিক সমাধানের ওপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হতাশা দূর করতে নামাজের গুরুত্ব
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, আধুনিক জীবনে মানুষ চরম বিষণ্ণতায় ভুগছে। তবে ইসলাম ধর্ম বলছে, নিয়মিত নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই মানসিক প্রশান্তি অর্জন সম্ভব। নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়, এটি মহান আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যম। পবিত্র কোরআনের প্রথম বাণী ‘পড়’ উল্লেখ করে আলেম সমাজ বলছেন, দ্বীনি জ্ঞান অর্জন এবং সালাত কায়েমের মাধ্যমে জীবনের অন্ধকার দূর করা সম্ভব।
সম্প্রতি এক আলোচনা সভায় বিশিষ্ট এক আলেম বলেন, “ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে যখন বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, তখন আমাদের মহানবীর (সা.) প্রদর্শিত পথে ফিরে আসা প্রয়োজন। তার ন্যায়পরায়ণতা ও ধৈর্যই ছিল বিজয়ের মূলমন্ত্র।” আপনি যদি নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম ও দোয়া জানতে চান, তবে আমাদের হতাশা থেকে মুক্তির দোয়া বিভাগটি দেখতে পারেন।
হারাম উপার্জন ও দোয়ার কবুলিয়ত
দোয়া কবুলের অন্যতম শর্ত হলো হালাল উপার্জন। হারাম উপার্জনের পরিণতি ভয়াবহ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থে কোনো নেক কাজ করলেও তা কবুল হয় না। তাই ব্যক্তিগত জীবনে বরকত পেতে হলে নামাজের পাশাপাশি হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকাও বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজনীয় দোয়া ও আমল
বিপদ-আপদ ও বালা-মুসিবত থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশ কিছু দোয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে দোয়া কুনুত এবং বিতির নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও নিয়মিত নামাজের সময়সূচি মেনে চলা জরুরি। বর্তমান সময়ের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানতে নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সহায়তা নেওয়া উচিত।
পরিশেষে, বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষের মনকে শান্ত রাখতে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে নামাজের শিক্ষা নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করার বিকল্প নেই। আল্লাহর ওপর অবিচল বিশ্বাস ও দোয়ার মাধ্যমেই কেবল আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি।

