কক্সবাজারজাতীয়

সংসদে কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন করার দাবি – লুৎফুর রহমান কাজল

পর্যটন নগরীর আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা এখন সময়ের দাবি বলে সংসদে প্রস্তাব পেশ।

জাতীয় সংসদের ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশনে কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল কক্সবাজার পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার জোরালো দাবি উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের এই শহরটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। অথচ পুরোনো পৌর কাঠামোর মাধ্যমে এই শহরের বিশাল প্রশাসনিক ও নাগরিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

পর্যটন রাজধানীর প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব

কক্সবাজারকে বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লুৎফুর রহমান কাজল তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০২৬ সালে এসে কক্সবাজারের জনসংখ্যা এবং পর্যটকদের আনাগোনা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক এই শহরে যাতায়াত করেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত রাস্তাঘাটের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সংসদ-এ সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাবটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নাগরিক ভোগান্তি

বর্তমানে কক্সবাজার পৌরসভার আয়তন এবং জনবল অত্যন্ত সীমিত। সংসদ সদস্য কাজল সংসদে জানান, বর্তমান পৌরসভার বাজেট দিয়ে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা নিশ্চিত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং শহরের শৃঙ্খলা ফেরাতে একটি শক্তিশালী স্বায়ত্তশাসিত সিটি কর্পোরেশন গঠন করা জরুরি। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে সরাসরি উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে।

লুৎফুর রহমান কাজলের যুক্তিসমূহ

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে লুৎফুর রহমান কাজল বেশ কিছু জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, কক্সবাজারের অর্থনীতি মূলত পর্যটন ও মৎস্য শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এই শিল্পগুলো থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে। অথচ স্থানীয় পর্যায় থেকে সেই রাজস্বের সুফল নাগরিকেরা প্রত্যাশিতভাবে পাচ্ছেন না। সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে স্থানীয় প্রশাসনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে জাতীয় সংবাদ বিভাগ দেখুন।

আন্তর্জাতিক মানের নগরায়ন

এমপি কাজল আরও যোগ করেন যে, সরকারের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর এবং দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন চালুর পর থেকে এই অঞ্চলের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সিটি কর্পোরেশন অপরিহার্য। পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা, প্রশস্ত রাস্তা এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলোর উন্নয়নের জন্য মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হলে সিটি কর্পোরেশনের কোনো বিকল্প নেই।

জনমানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

কক্সবাজারের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরের দাবি জানিয়ে আসছেন। সংসদ সদস্যের এই দাবি সংসদে উত্থাপিত হওয়ায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার আলো দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও রক্তদানের মতো মানবিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনতে সিটি কর্পোরেশন গঠন সহায়ক হতে পারে। এ প্রসঙ্গে পর্যটকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে রক্তদান ও সেবা কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোও সহজ হবে।

প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও কর্মসংস্থান

সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে কক্সবাজারে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রশাসনিক নাম পরিবর্তন নয়, বরং এর সাথে জড়িয়ে আছে কয়েক হাজার মানুষের জীবিকা। সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল জোর দিয়ে বলেন যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে কক্সবাজারকে খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম সেরা স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে পড়ুন রাজনীতি পাতায়।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সরকারের ভূমিকা

সরকার বর্তমানে সারা দেশে সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিধি বাড়াচ্ছে এবং নতুন সিটি কর্পোরেশন গঠনের পরিকল্পনা করছে। লুৎফুর রহমান কাজল সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন যেন ২০২৬ সালের মধ্যেই কক্সবাজার সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম, সুপেয় পানির সরবরাহ এবং যানজটমুক্ত শহর গড়ার জন্য সিটি কর্পোরেশন এখন বিলাসিতা নয়, বরং বাস্তব প্রয়োজন। কক্সবাজারকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে সরকারের বিশেষ নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

জাতীয় সংসদে এই আলোচনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কক্সবাজারের বাসিন্দারা আশা করছেন, সংসদ সদস্যের এই দাবির প্রেক্ষাপটে খুব শীঘ্রই প্রশাসনিকভাবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সীমানা নির্ধারণসহ অন্যান্য কারিগরি কাজ শুরু হবে। পর্যটন নগরীকে বিশ্বমানের রূপ দিতে লুৎফুর রহমান কাজলের এই উদ্যোগকে সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন।

খোলা ময়দানে কক্সবাজার জেলা বিএনপির ইফতার

সম্পর্কিত পোস্ট

একটি উত্তর দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button