Politicsজাতীয়রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন: সভাপতি হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ঐতিহাসিক অভিষেক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ৫২ বছর আগের নজির মেনে অনুষ্ঠিত হলো এই অধিবেশন। জানুন বিস্তারিত সংবাদ।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১২ মার্চ, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়। এই অধিবেশনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ৫২ বছর আগের এক বিশেষ নজির অনুসরণ করে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আগে একজন ‘সভাপতি’ নির্বাচন করা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে এই গুরুদায়িত্ব প্রদান করা হয়।

সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন

সংসদীয় ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ ও সভাপতির ভূমিকা

সাধারণত নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সভাপতিত্ব করেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির বিশেষ ধারায় ৫২ বছর আগের একটি দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে সরাসরি সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে অধিবেশন পরিচালনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান অধিবেশনে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ড. মোশাররফ একজন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এবং তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এই ক্রান্তিকালে সংসদকে সঠিকভাবে পরিচালনার পথ দেখাবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আপনি বিবিসি বাংলা সংবাদ মাধ্যমটি অনুসরণ করতে পারেন। সংসদীয় কার্যপ্রণালি বিধির এই সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো আমাদের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপক্কতাকেই নির্দেশ করে।

বিরোধী দলের সমর্থন ও গঠনমূলক সমালোচনা

অধিবেশনের শুরুতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাবে বিরোধী দল পূর্ণ সমর্থন জানায়। তবে সমর্থনের পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে একটি সূক্ষ্ম অভিযোগও তোলা হয়। তারা জানান, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সরকারি দল যদি আগে থেকে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করে নিত, তবে তা সংসদীয় শিষ্টাচারের জন্য আরও ইতিবাচক হতো। তা সত্ত্বেও, কোনো প্রকার জোরালো বিরোধ ছাড়াই সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংসদের এই গঠনমূলক বিতর্ক এবং আলাপ-আলোচনার পরিবেশ দেশের সামগ্রিক শিক্ষামূলক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে। এই বিষয়ে আরও জানতে ভিজিট করতে পারেন BD Edu প্ল্যাটফর্মটি।

অধিবেশনের কার্যক্রম ও মুলতবি

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি

প্রথম দিনের এই অধিবেশনে সভাপতির তত্ত্বাবধানে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। অধিবেশন শুরুর পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। তবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়াটি এখনো বাকি। সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম দিনের অধিবেশন শেষ করার আগে আগামী রোববার সকাল ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন। আশা করা হচ্ছে, আগামী অধিবেশনেই পূর্ণাঙ্গ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার প্যানেল নির্বাচন করা হবে।

দেশের রাজনৈতিক এই পটপরিবর্তন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত বিশ্লেষণ পেতে আমাদের রাজনীতি ট্যাগ পাতায় নজর রাখুন। আমাদের ওয়েবসাইটে আপনি বাংলাদেশ সংসদ আপডেট সংক্রান্ত সকল তথ্য সবার আগে পাবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা ছিল না, বরং এটি ছিল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনের কেন্দ্রবিন্দু। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম বৈঠকটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিদ্যমান এই সহনশীলতার সংস্কৃতি যদি পুরো অধিবেশন জুড়ে বজায় থাকে, তবে বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থা এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে। দেশের মানুষ এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে আগামী রোববারের অধিবেশনের জন্য, যেখানে সংসদের স্থায়ী অভিভাবক হিসেবে স্পিকার নির্বাচন করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

সম্পর্কিত পোস্ট

একটি উত্তর দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button