বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে কৃষি, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এর ওপর। তার এই নিয়োগকে দেশের কৃষি খাতের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, তিনি শুধুমাত্র একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং একজন সফল এবং নিবেদিতপ্রাণ কৃষি উদ্যোক্তা। কুমিল্লায় অবস্থিত তার নিজ বাড়িটি এখন আর কেবল একটি বাসস্থান নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ এবং বৈচিত্র্যময় খামারে পরিণত হয়েছে। যখন একজন নীতিনির্ধারক নিজেই মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা রাখেন, তখন সেই মন্ত্রণালয়ের গতিশীলতা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞ মহলে এখন একটাই আলোচনা—যথাযথ যায়গায় গিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বাড়ির আঙিনায় সবুজের সমারোহ ও আধুনিক চাষাবাদ
হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ লালন করে এসেছেন। তার বাড়ির বিশাল আঙিনায় তিনি গড়ে তুলেছেন ফলদ, বনজ এবং ভেষজ গাছের এক বিশাল সংগ্রহশালা। আম, জাম, কাঁঠাল থেকে শুরু করে ড্রাগন ফল এবং মাল্টার মতো আধুনিক ফলের চাষও তিনি সফলভাবে করছেন। তার এই শখ কেবল গাছের চারা রোপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, তিনি প্রতিটি গাছের যত্ন নেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। জৈব সারের ব্যবহার এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থার প্রয়োগ দেখে যে কেউ তাকে একজন বিশেষজ্ঞ কৃষিবিদ হিসেবে ভুল করতে পারেন।
তিনি বিশ্বাস করেন যে, দেশের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে চাষের আওতায় আনতে হবে। তার এই ব্যক্তিগত উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো জায়গাকেই উৎপাদনশীল করা সম্ভব। এই বিষয়ে আরও জানতে আপনারা কৃষি মন্ত্রণালয় এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। তার বাড়ির এই খামার এখন স্থানীয় তরুণদের জন্য একটি কৃষি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
আরো পড়ুনঃ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ: ………
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত
কেবল শাকসবজি বা ফলমূল নয়, মাছ চাষ এবং গবাদি পশু পালনেও তিনি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। তার বাড়িতে আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস্য চাষের জন্য বেশ কয়েকটি পুকুর রয়েছে। সেখানে কার্প জাতীয় মাছের পাশাপাশি পাঙ্গাস এবং তেলাপিয়ার নিবিড় চাষ করা হয়। এছাড়া তিনি বায়ো-ফ্লক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন যা সীমিত জায়গায় অধিক মাছ উৎপাদনের একটি আধুনিক কৌশল। প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রে তার খামারে রয়েছে উন্নত জাতের গাভী এবং ছাগল। প্রতিদিনের দুধের চাহিদা মিটিয়ে তিনি স্থানীয়দের মাঝেও পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করছেন।
যথাযথ যায়গায় গিয়েছে মন্ত্রণালয়: বিশেষজ্ঞ মতামত
কৃষি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া একটি সঠিক সিদ্ধান্ত। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মন্ত্রী যখন জানেন মাটির উর্বরতা রক্ষা করতে কী প্রয়োজন বা একজন খামারিকে কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, তখন তার সিদ্ধান্তগুলো অনেক বেশি বাস্তবমুখী হয়। আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের নিজের খামার তার দক্ষতার প্রমাণ। আমরা আশাবাদী তার অধীনে বাংলাদেশের কৃষি খাত নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।’ এই ধরনের আরও তথ্য পেতে আমাদের সম্পর্কিত সংবাদ বিভাগে চোখ রাখুন।
খাদ্য নিরাপত্তা ও আগামী দিনের পরিকল্পনা
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মন্ত্রী মহোদয় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করেছেন। তিনি মনে করেন, কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই তার প্রধান লক্ষ্য। তার খামারে তিনি যেভাবে খরচ কমিয়ে উৎপাদন বাড়িয়েছেন, সেই অভিজ্ঞতা তিনি দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চান। তিনি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
উপসংহার: কৃষকের মন্ত্রী, কৃষির উন্নতি
পরিশেষে বলা যায়, হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন এর মতো একজন মাঠ পর্যায়ের মানুষকে কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। তার নিজের বাড়ি যে খামারের রূপ নিয়েছে, তা কেবল তার ব্যক্তিগত শখ নয়, বরং কৃষিপ্রেমের এক জীবন্ত দলিল। তার নির্দেশনায় বাংলাদেশ খুব শীঘ্রই খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রেখে রপ্তানি খাতেও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, তার হাতে বদলে যাবে বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতি এবং সুরক্ষিত হবে কৃষকের অধিকার।



