বাংলাদেশে অ্যাপলের আইফোনের জনপ্রিয়তা দিন দিন আকাশচুম্বী হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন আইফোনের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক গ্রাহকই ঝুঁকছেন ব্যবহৃত বা ‘ইউজড’ আইফোনের দিকে। তবে এই সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন কিনতে গিয়ে ঢাকার জনপ্রিয় দুই শপিং মল—বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এবং যমুনা ফিউচার পার্কে অনেক গ্রাহকই চরম বিভ্রান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি একাধিক ভুক্তভোগী গ্রাহক তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছেন, যা প্রযুক্তি প্রেমীদের মাঝে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে।

ইউজড আইফোন বাজারের নেপথ্য কাহিনী
ঢাকার আইফোন কেনাবেচার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দুই মার্কেটে শত শত দোকান রয়েছে। সেখানে কাস্টমাইজড এবং সেকেন্ড হ্যান্ড ফোনের রমরমা ব্যবসা চলে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক দোকানদার ফোনের প্রকৃত সমস্যাগুলো গ্রাহকদের কাছে গোপন রাখছেন। তারা ফোনের বাইরের বডি পলিশ করে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন তা একদম নতুনের মতো। অথচ ফোনের ভেতরে থাকা নানা যান্ত্রিক ত্রুটি সাধারণ গ্রাহকের চোখে ধরা পড়ে না। প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে আমাদের টেকনোলজি বিভাগ অনুসরণ করুন।
গ্রাহকের সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
সম্প্রতি একজন গ্রাহক যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকান থেকে একটি ব্যবহৃত আইফোন কিনেছিলেন। তিনি জানান, ফোনটি কেনার সময় সব ঠিকঠাক মনে হলেও মাত্র সপ্তাহখানেক ব্যবহারের পরই ডিসপ্লেতে নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ফোনের ব্যাটারি পারফরম্যান্স কয়েক দিনেই মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। এমনকি অনেক ফোনে ডিসপ্লে পরিবর্তনের মতো বড় ধরনের কাজ করানো থাকলেও তা গ্রাহককে জানানো হয় না। এই ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি, যা আপনি বিডি এডু ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন টিপস আকারে জানতে পারেন।
যেসব সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে
ব্যবহৃত আইফোন কেনার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি প্রধান সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। প্রথমত, ব্যাটারি বুস্টিং। অনেক অসাধু বিক্রেতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে ব্যাটারি হেলথ বাড়িয়ে দেখান, যা কয়েক দিন ব্যবহারের পর আসল রুপে ফিরে আসে। দ্বিতীয়ত, ডিসপ্লে পরিবর্তন। অরিজিনাল ডিসপ্লে সরিয়ে সস্তা মানের থার্ড পার্টি ডিসপ্লে লাগানো হয়। তৃতীয়ত, ওয়াটার ড্যামেজ। ভেতরে পানি ঢুকে ক্ষতি হওয়া ফোনগুলো কোনোমতে সচল করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে, যা নিয়ে জাতীয় সংবাদ ক্যাটাগরিতে আমরা নিয়মিত আপডেট দিচ্ছি।
বিক্রেতাদের চতুর কৌশল
দোকানদাররা অনেক সময় ‘চেকিং ওয়ারেন্টি’র নামে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেন। কিন্তু গ্রাহক যখন সাত বা দশ দিন পর সমস্যা নিয়ে দোকানে যান, তখন অনেক ক্ষেত্রে দোকানদাররা সেই দায় নিতে অস্বীকার করেন। তারা অজুহাত দেন যে এটি গ্রাহকের ব্যবহারের ভুলে হয়েছে। আইফোনের প্রকৃত মান যাচাই করার জন্য অ্যাপলের অফিসিয়াল গাইডলাইন অনুসরণ করা সবসময়ই নিরাপদ, যা আপনি অ্যাপলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে যাচাই করে নিতে পারেন।
ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরামর্শ
এখন যারা ব্যবহৃত ফোন কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু টিপস দিয়েছেন। ফোন কেনার সময় অবশ্যই ‘থ্রিইউ টুলস’ (3uTools) ব্যবহার করে ফোনের হার্ডওয়্যার পার্টসগুলো চেক করে নিন। এছাড়া ডিসপ্লের ট্রু টোন (True Tone) এবং ফেস আইডি কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করুন। ফোনে কোনো অ্যাপল আইডি লগইন করা আছে কি না সেটিও ভালো করে দেখে নিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, ভালো কোনো বিশ্বস্ত শোরুম বা পরিচিত কারো মাধ্যম ছাড়া হুটহাট দামী সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কেনা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
কেনাকাটায় আরও সতর্ক হওয়ার সময় এখনই
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তাতে সাধের টাকা খরচ করে প্রতারিত হওয়াটা কারো কাম্য নয়। অনেক সময় দেখা যায় আইফোনের ভেতর থেকে অরিজিনাল পার্টস খুলে নিয়ে সেখানে নিম্নমানের পার্টস লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে রিফারবিশড ফোনগুলোকে নতুনের মতো করে বাজারে চালিয়ে দেওয়ার একটি বড় সিন্ডিকেট কাজ করছে। তাই শুধু চাকচিক্য দেখে নয়, বরং ইন্টারনাল পারফরম্যান্স এবং সিরিয়াল নাম্বার মিলিয়ে ফোন কেনা উচিত। গ্রাহকদের সচেতনতাই পারে এই ধরনের অসাধু ব্যবসাকে রুখে দিতে।
আরো পড়ুনঃ আজকের সেরা ৫ আপডেট যা আপনার জীবন বদলে দেবে



