আন্তর্জাতিকজাতীয়ফ্যাক্ট চেক

রামপালে ভারতীয় এমডি নিয়োগ: ভাইরাল দাবির পেছনের সত্যতা কী?

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন এমডি ভারতীয় প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নতুন এমডি ভারতীয় প্রকৌশলী রমানাথ পূজারী নিয়োগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা আলোচনা চলছে। কিছু ব্যক্তি এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

কিন্তু রেকর্ড ও চুক্তি দেখলে বোঝা যায়, এটি হঠাৎ করে ঘটে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং প্রকল্পের প্রতিষ্ঠার সময়ের চুক্তির অংশ হিসেবেই নিয়মিতভাবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।

রামপাল প্রকল্প কী?

বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম মৈত্রী সুপার তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প। এটি বাংলাদেশ এবং ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।

এই প্রকল্পটি বিপিডিবি ও এনটিপিসির যৌথ উদ্যোগ। দুই পক্ষের অংশীদারিত্ব ৫০:৫০। এই যৌথ কোম্পানির নাম বাংলাদেশ–ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

এমডি পদ কেন আবর্তন পদ্ধতিতে দেওয়া হয়?

যেহেতু এটি একটি যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান, তাই এর শীর্ষ পদগুলো দুই অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সময়ে সময়ে বদলানো হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদটি নির্দিষ্ট সময় পর বাংলাদেশ ও ভারতের মনোনীত ব্যক্তিদের মধ্যে সরবরাহ করা হয়।

তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রথম দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আবসার উদ্দিন এবং সৈয়দ আকরামউল্লাহ দুজনই ছিলেন বাংলাদেশি।

পরবর্তীতে তৃতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ভারতীয় নাগরিক সঙ্গীতা কৌশিক ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

তাঁর মেয়াদ শেষ হলে চুক্তির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক রামনাথ পূজারী ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এটি পূর্বনির্ধারিত চুক্তির অংশ হিসেবে স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বলে মনে করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারসহ অতীতে একই কাঠামোয় নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যৌথ উদ্যোগভিত্তিক প্রকল্পে এ ধরনের পরিবর্তন ব্যবস্থা অস্বাভাবিক কিছু নয়। এজন্য রামপাল প্রকল্পে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ভারতীয় কর্মকর্তার নিয়োগ চুক্তির ধারাবাহিকতার অংশ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পদে ভারতীয় নাগরিক কেন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে?

এটি আকস্মিক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। চুক্তি অনুযায়ী, এমডি পদটি বাংলাদেশ ও ভারতের মনোনীত কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে পর্যায়ক্রমে (আবর্তন পদ্ধতিতে) নির্ধারিত হয়।

প্রথম এমডিরা কারা ছিলেন?

প্রকল্পটির প্রথম দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন বাংলাদেশি নাগরিক-
কাজী আবসার উদ্দিন
সৈয়দ আকরামউল্লাহ

সঙ্গীতা কৌশিক কে ছিলেন?

সঙ্গীতা কৌশিক একজন ভারতীয় নাগরিক, যিনি ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তৃতীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এমডি নিয়োগ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি কেন ছড়াচ্ছে?

কিছু মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট নথি ও চুক্তির কাঠামো অনুযায়ী এটি পূর্বনির্ধারিত ও স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

যৌথ উদ্যোগ প্রকল্পে এ ধরনের আবর্তন ব্যবস্থা কি স্বাভাবিক?

হ্যাঁ, বিশ্লেষকদের মতে যৌথ উদ্যোগভিত্তিক প্রকল্পে অংশীদার দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শীর্ষ পদ পর্যায়ক্রমে বণ্টন করা একটি স্বাভাবিক ও প্রচলিত পদ্ধতি।

BartaNow - বার্তানাও

বার্তানাও: বিশ্ব সংবাদ, সহজ ভাষায়। খবর জানো, সংযোগে থাকো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button