বাংলাদেশের ২০২৬ নির্বাচন: তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়
১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া প্রথম সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম বড় কোনো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
দলের প্রধান তারেক রহমান, যিনি প্রায় ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরেছেন, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি ২১২টিতে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
নির্বাচনের পাশাপাশি ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বিষয়ক একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অধিকাংশ মানুষ সনদের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই গণভোটকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আদর্শিক বিভাজন লক্ষ্য করা গেলেও নির্বাচনের ফলাফলে বিএনপির আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুসলিম প্রধান এই দেশে এটি ইসলামপন্থী রাজনীতির একটি বড় প্রসার, তবে একই সঙ্গে এটি একটি নির্দিষ্ট ‘সিলিং’ বা সীমাবদ্ধতাও নির্দেশ করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নতুন সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতি স্থিতিশীল করা এবং নারী অধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক উদ্বেগ নিরসন করা।
আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের এই পরিবর্তন ভারত, চীন ও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির নতুন নেতৃত্ব কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বজায় রাখে, তা এখন দেখার বিষয়।
