বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান: শুরু হলো নতুন যুগ

১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এই রাষ্ট্রীয় অভিষেক সম্পন্ন হলো।
বঙ্গভবনে রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠান
রাজধানীর বঙ্গভবনে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পুত্র। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থাকার পর দেশের রাজনীতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সমর্থকরা এক নতুন সূর্যোদয় হিসেবে দেখছেন। নতুন সরকার গঠনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী।
মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব
নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের পাশাপাশি নতুন মুখের সমন্বয় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা নিতাই রায় চৌধুরী-র অন্তর্ভুক্তি। সরকারের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আল জাজিরা-র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই মন্ত্রিসভা দেশের সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা নতুন সরকারের কাছে বিশেষ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাথে এক সাক্ষাৎকারে চারজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসন সংরক্ষিত থাকবে।’
আগামীর চ্যালেঞ্জ ও লক্ষ্য
নতুন সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং মানবাধিকার রক্ষা। তারেক রহমান তার ভাষণে সুশাসন এবং স্বচ্ছতার অঙ্গীকার করেছেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নতুন মন্ত্রিসভার বিস্তারিত জানতে আমাদের বাংলাদেশ রাজনীতি বিভাগটি ঘুরে দেখুন।
সবশেষে, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখাই হবে এই সরকারের মূল পরীক্ষা। আন্তর্জাতিক মহলও বাংলাদেশের এই নতুন যাত্রার দিকে গভীর নজর রাখছে।
