দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে বদলে যাবে জীবন: ডিজিটাল যুগে ইমান রক্ষার উপায়
স্মার্টফোনের অপব্যবহার ও গুনাহ থেকে বাঁচতে দৃষ্টির হেফাজতকে মুমিনের প্রধান অস্ত্র হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে যেখানে স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অবারিত অশ্লীলতা আমাদের চোখের সামনে, সেখানে একজন মুসলিমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণ করা। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের তাদের দৃষ্টি অবনত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন, যা কেবল ধর্মীয় বিধানই নয় বরং আত্মিক প্রশান্তির অন্যতম মাধ্যম।
দৃষ্টির হেফাজত ও কোরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনদের বলো তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে।’ (সুরা নুর, আয়াত: ৩০)। ইমানদারদের জন্য এই আদেশ পালনের মাধ্যমে অন্তরে বিশেষ নূর বা আলো সৃষ্টি হয়। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় কালের কণ্ঠ পত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘গুনাহের কারণে ইবাদতের স্বাদ হারিয়ে যায়।’ যারা চোখের হেফাজত করতে পারে না, তাদের অন্তর থেকে ইবাদতের মিষ্টতা ধীরে ধীরে চলে যায়।
ডিজিটাল আসক্তি ও আত্মিক সংকট
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ডিজিটাল আসক্তির যুগে ইসলামি জীবন ধরে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং সাইটগুলোতে অনবরত এমন সব চিত্র ভেসে আসে যা আমাদের দৃষ্টির পবিত্রতা নষ্ট করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ‘চোখের জেনা’ মানুষের চিন্তা ও মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নেয়, যার ফলে আধ্যাত্মিক পতন ত্বরান্বিত হয়।
বিশেষজ্ঞের অভিমত: আধুনিক সময়ে সমাধান
জনপ্রিয় ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তার এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ‘ধর্মকে অগ্রাধিকার দিয়েও যেকোনো দেশ ও ব্যক্তি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে।’ তার মতে, দৃষ্টির হেফাজত কেবল একটি ব্যক্তিগত আমল নয়, এটি চরিত্র গঠনের ভিত্তি। যে ব্যক্তি নিজের চোখ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তার মধ্যে ধৈর্য ও আত্মসংযম তৈরি হয় যা তাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল করে তোলে।
ইবাদতের স্বাদ ফিরে পাওয়ার উপায়
সুরা আশ-শামসে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে।’ আত্মশুদ্ধির প্রথম ধাপই হলো চোখকে নিয়ন্ত্রণ করা। যখন একজন মুমিন আল্লাহর ভয়ে হারাম কিছু দেখা থেকে বিরত থাকে, তখন আল্লাহ তার অন্তরে এমন এক ইমানের স্বাদ দান করেন, যা পৃথিবীর অন্য কোনো সুখে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই প্রতিদিনের রুটিনে ইসলামিক কন্টেন্ট রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিং কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
আরো পড়ুনঃ সংকট ও হতাশা থেকে মুক্তিতে নামাজ ও দোয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই

