কক্সবাজারজাতীয়পর্যটনস্থানীয় সংবাদ

কক্সবাজারে পর্যটক চাপ বৃদ্ধি, সমুদ্রসৈকতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কক্সবাজারে পর্যটকের হঠাৎ চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সমুদ্রসৈকতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, হোটেলগুলোতে বেড়েছে আগাম বুকিং।

কক্সবাজারে পর্যটকের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসু পর্যটক সমুদ্রসৈকতে ভিড় করছেন। এতে হোটেল মোটেল জোন, কলাতলী ও লাবণী পয়েন্ট এলাকায় বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা গেছে।

পর্যটক বাড়ায় হোটেলগুলোতে বুকিং সংকট

হোটেল মালিকদের সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়েও অধিকাংশ আবাসিক হোটেল প্রায় পূর্ণ রয়েছে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে আগাম বুকিংয়ের হার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশে পৌঁছেছে।

হোটেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসের তুলনায় বর্তমানে পর্যটকের সংখ্যা অনেক বেশি। এতে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রেস্তোরাঁ ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আরো পড়ুনঃ হয়তো দোষটা আমারই: এক আত্মসমালোচনার গল্প

সমুদ্রসৈকতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে লাইফগার্ডের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সাগরে গোসলের সময় লাল পতাকা চিহ্নিত এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য পর্যটকদের সচেতন করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

সৈকত সংলগ্ন দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক বাড়ায় বিক্রি বেড়েছে। বিশেষ করে শুঁটকি, বার্মিজ পণ্য ও স্থানীয় হস্তশিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ মন্দার পর আবারও পর্যটকের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ব্যবসা। যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে সামনের মৌসুম আরও ভালো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরিবেশ সুরক্ষায় সতর্কবার্তা

পর্যটকের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সৈকতের পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসন সৈকতে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। পর্যটকদের নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আগামী ছুটিতে আরও ভিড়ের আশঙ্কা

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামনে টানা ছুটি থাকায় পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

 

রক্তদাতা খুজতে ও রক্ত দিতেঃ রক্তদাও – RoktoDao https://roktodao.bartanow.com/ 

সম্পর্কিত পোস্ট

একটি উত্তর দিন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button